এসইও (SEO) কি ? কিভাবে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য এসইও করতে হয় ?

এসইও (SEO) কি?

SEO মানে হলো Search Engine Optimization. আমরা যারা ব্লগার বা ইউটিউবার, কনটেন্ট তৈরি করে থাকি তারা সাধারণত এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এই কথাটির সাথে পরিচিত।

SEO মানে কি
What is SEO in Bangla?

“SEO মানে কি ? কিভাবে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য এসইও করতে হয় ?” এ বিষয়ে আজকে আমি কথা বলবো।

এসইও হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমরা ওয়েবসাইট বা ব্লগে সার্চ ইঞ্জিন থেকে অর্গানিক ট্রাফিক বা ভিজিটরস পেয়ে থাকি। ওয়েবসাইট বা ব্লগ সঠিকভাবে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিনের জন্য অপটিমাইজ করলে সার্চ ইঞ্জিন আমাদের ব্লগকে সার্চ রেজাল্টে প্রথম পেজে দেখিয়ে থাকে।

যার ফলে আমরা একটি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড টার্গেট করে লেখা আর্টিকেলে প্রচুর পরিমানে ট্রাফিক সার্চ ইঞ্জিন অর্থাৎ গুগল থেকে পেয়ে যাই যেই পরিমাণ ট্রাফিক আমাদের গুগল থেকে পাওয়ার কথা ছিলো।

তাই আজকে এই আর্টিকেলে আমি আলোচনা করবো, এসইও (SEO) কি, এসইও এর কাজ কি এবং কিভাবে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য এসইও করতে হয়?

এসইও কি? What is SEO in Bangla?

এসইও হলো এমন একটি পদ্ধতি, মনে করুন আপনি কোন একটি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড টার্গেট করে আর্টিকেল লিখছেন, তারপর সেই আর্টিকেলটি ভালোভাবে এসইও অপটিমাইজ (seo optimize) করে ব্লগে পাবলিশ করলেন। তারপর কিছুদিনের মধ্যেই সেই আর্টিকেলটি গুগল সার্চে (SERP) rank করা শুরু করবে এবং সেই আর্টিকেলটির মাধ্যমে ভালো পরিমাণে ট্রাফিক আপনার ব্লগে আসবে।

SERP এর পূর্ণরূপ হলো Search Engine Result Page. অর্থাৎ SERP তে একদম first position এ যদি আপনার একটি আর্টিকেল রেংক করে তাহলে সেটার মাধ্যমে search engine থেকে অর্গানিক ট্রাফিক আপনি পাবেন। আর এটা করতে এসইও এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এতক্ষণ বললাম ব্লগের বিষয়ে। যদি আপনি ইউটিউবের কথা চিন্তা করেন, সেখানেও এসইও এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যদি ইউটিউব ভিডিও ভালোভাবে অপটিমাইজ করে আপলোড না করেন তাহলে সেই ভিডিও কোনভাবেই ইউটিউব সার্চে র্যাংক করবে না এবং ভালো ভিউস আপনি পাবেন না।

তাই এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেটার মাধ্যমে অর্গানিক ট্রাফিক ওয়েবসাইটে চলে আসে।

এসইও (SEO) কত প্রকার ও কি কি?

এসইও সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন,

  • On Page SEO (অন পেজ এসইও)
  • Off Page SEO (অফ পেজ এসইও)

এই এসইও এর প্রকার দুটির বিষয়ে আমি পরে বলবো। আরো কয়েকটি এসইও এর প্রকার সম্পর্কে জেনেনি।

আমি যে কয়েকটি এসইও এর প্রকারের বিষয়ে বলবো সেগুলো হলো,

  • অর্গানিক এসইও
  • পেইড এসইও

অর্গানিক এসইও এবং পেইড এসইও কি?

অর্গানিক এসইও বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে সঠিক এসইও পদ্ধতি ব্যবহার করে ওয়েবসাইট বা ব্লগকে গুগল সার্চে র্যাংক করানো। অর্থাৎ অন পেজ এসইও, অফ পেজ এসইও ইত্যাদি সবগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পর আপনার ব্লগ যদি গুগল সার্চে প্রথম পেজে র্যাংক করে তাহলে সেটাকে অর্গানিক এসইও বলা হয়।  এখন আসি পেইড এসইও তে। আপনি হয়তো গুগলে কোন কিছু সার্চ করার সময় search result এর একদম উপরের পজিশনে কতগুলো সাইট দেখতে পান যেগুলোর পাশে Ad এই কথাটি লেখা থাকে। সেগুলো হলো পেইড এসইও।

পেইড এসইও করার জন্য ওয়েবসাইট বা কোম্পানির মালিক গুগলকে নির্দিষ্ট অর্থ পে করে থাকে যার বনিময়ে গুগল তার সাইটকে সার্চের প্রথম দিকে দেখিয়ে থাকে। এই পেইড এসইও এর মেয়াদ আবার নির্দিষ্ট। গুগলকে অর্থ পে করার মেয়াদ শেষ হলে গুগল সেই ওয়েবসাইটকে আর প্রথম পেজে দেখাবে না।

এই অর্গানিক এসইও আবার দুই ধরনের হয়ে থাকে।

যেমন ব্লাক হ্যাট এসইও (Black hat seo) এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও (White hat seo)

হোয়াইট হ্যাট এসইও বলতে বোঝায় সঠিক Seo technic ব্যবহার করে ওয়েবসাইট বা ব্লগকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য অপটিমাইজেশন করা। এতে আপনার ব্লগের এসইও প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। অর্থাৎ ব্লগের কনটেন্ট গুগলে ভালো রেংক করলে সেই র্যাংকিং দীর্ঘদিন ধরে অব্যহত থাকে। অর্থাৎ আমাদের হোয়াইট হ্যাট এসইও টেকনিক ব্যবহার করা অবশ্যই প্রয়োজনীয়।

আর ব্লাক হ্যাট এসইও বলতে বোঝানো হচ্ছে সঠিক এসইও টেকনিক অনুসরণ না করা। এতে আপনার কখনোই লাভ হতে পারে না। Black hat seo technic ব্লগে ব্যবহার করলে সেই আর্টিকেল যদি গুগলে র্যাংক করেও থাকে, তবুও সেটা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কিছুদিন পর গুগল সেই ব্লগকে SERP থেকে remove করে দেয়।  Keyword over optimization ও এর আওতায় পরে।

যদি আপনি টার্গেট করা কিওয়ার্ড আর্টিকেলে অনেকবার অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার করে থাকেন তাহলে সেটা অভার অপটিমাইজ হয়ে যায় এবং সেক্ষেত্রে আর্টিকেলটি গুগলে র্যাংক করলেও কিছুদিন পর গুগল সার্চে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

এতক্ষণ আমি কথা বললাম এসইও কি এবং এসইও এর কাজ কি এই বিষয়ে।  এখন আমি বলবো একটি নতুন ওয়েবসাইট বা ব্লগ কিভাবে শুরু থেকে এসইও করতে হয়।

কিভাবে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য এসইও করতে হয়?

আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ ইতোমধ্যে রয়েছে এবং আপনি সেটাকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য অপটিমাইজেশন বা SEO করতে চাচ্ছেন তাহলে আপনাকে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে হবে।  কিওয়ার্ড রিসার্চ এসইও অপটিমাইজ (SEO Optimize) আর্টিকেল লেখা On page seo সম্পর্কে জানতে হবে Off page seo সম্পর্কে জানতে হবে ব্লগ গুগল সার্চ কনসোলে সাবমিট করতে হবে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ কি?

কিওয়ার্ড রিসার্চ সম্পর্কে আপনার একটু ধারণা তো অবশ্যই রয়েছে। কিওয়ার্ড হলো একটি আর্টিকেল লেখার জন্য নির্দিষ্ট একটি শব্দ বা বাক্যাংশ যেটার উপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি লেখা হয়।  যেমন আমার এই আর্টিকেলের main keyword হলো “এসইও কি”। এই কিওয়ার্ড টির উপরে আমি আর্টিকেলটি লিখেছি।

আর্টিকেল লিখার আগে আপনাকে কিছু কিওয়ার্ড নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। সেই কিওয়ার্ডের monthly search volume কতো, keyword এ competition কম না বেশি এগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি Google keyword planner ব্যবহার করে ফ্রিতে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারেন।

তাছাড়া আরো কিছু ফ্রি টুলস রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ahrefs সেরা। সুতরাং একটি আর্টিকেল লিখে সেটার মাধ্যমে ব্লগে ট্রাফিক আনতে চাইলে কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে সেটার সার্চ ভলিউম জানতে হবে। অর্থাৎ সেই কিওয়ার্ড নিয়ে গুগলে কেমন পরিমাণে সার্চ করা হচ্ছে।

অন পেজ এসইও (On Page SEO) কি?

আমি একটি পয়েন্ট বাদ দিলাম সেটি হলো “এসইও অপটিমাইজ আর্টিকেল লিখা”।  এর কারণ SEO Optimize আর্টিকেল লিখা On page seo এর মধ্যেই পড়ে।  On Page Seo এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো  Title tag Meta description tag Image alt text অর্থাৎ Image এর alt text এ কিওয়ার্ড ব্যবহার করে ইমেজ অপটিমাইজ করা। আর্টিকেলে কিওয়ার্ড এর ব্যবহার Focus keyword বা একটি মেইন কিওয়ার্ড এর ব্যবহার Internal linking External linkling Long আর্টিকেল লিখা।

আমি যে বিষয়গুলো বললাম এগুলো সঠিকভাবে অণুসরণ করে ব্লগে আর্টিকেল লিখতে হবে।

আর্টিকেল লিখার পর সেটা এসইও ফ্রেন্ডলি হলো কিনা তা বোঝার একটি সহজ উপায় রয়েছে।

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ব্লগ তৈরি করেন তাহলে আপনাকে Yoast SEO বা Rank Math SEO প্লাগিন ব্যবহার করতে হবে। যদি আপনি এই প্লাগিন দুটির যেকোন ‌একটি ব্যবহার করেন তাহলে নিচে আপনার আর্টিকেল ভালোমতো অপটিমাইজ হলো কিনা তা দেখতে পারবেন।

আর্টিকেল লেখার সময় নিচে Seo analysis এ আপনি এগুলো দেখতে পারবেন। কোথাও কোন ভুল হলে সেখান থেকে জানতে পারবেন। এক্ষেত্রে আমি পরামর্শ দিবো Yoast SEO ব্যবহার করার।  কনটেন্ট এর টাইটেল শুরুর প্রথম দিকে মেইন কিওয়ার্ড টা একবার ব্যবহার করবেন। Meta description অবশ্যই দিবেন। Meta description এ মেইন কিওয়ার্ড একবার বা দুবার ব্যবহার করবেন। Focus keyword এ মেইন কিওয়ার্ড টা লিখে দিবেন‌। আর্টিকেলের ভিতর মেইন কিওয়ার্ড তিন থেকে চারবার ব্যবহার করবেন।

ইমেজ এ alt text ব্যবহার করবেন। অবশ্যই internal linking করবেন। একটি কনটেন্ট এর সাথে রিলেটেড আরেকটি কনটেন্ট লিংক করে দিবেন। এভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি একটি আটিকেল লিখে ব্লগে পাবলিশ করবেন।

অন পেজ এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি যে বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে সেটি হলো Website speed. আপনার ওয়েবসাইট যথেষ্ঠ ফাস্ট থাকতে হবে। স্লো লোডিং ওয়েবসাইটে ট্রাফিক গুগল থেকে কম আসে।

যদি ওয়েবসাইটের লোডিং টাইম অনেক বেশি হয় তাহলে ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইট থেকে ব্যাক হয়ে অন্য সাইটে চলে যায় । সুতরাং সাইটের স্পিড ফাস্ট রাখা অবশ্যই উচিত। এবার আসি Off page seo তে।

অফ পেজ এসইও (Off Page SEO) কি?

এর অন্তর্ভুক্ত হলো Domain authority এবং Backlink. আপনার ব্লগের যথেষ্ট ব্যকলিংক তৈরি করতে থাকবেন। যথাসম্ভব high authority র ব্লগগুলো থেকে backlink করার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার ব্লগের ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধি পাবে।

আর গুগল সবসময় একটি হাই অথরিটি সমৃদ্ধ ব্লগকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং সার্চ র্যাংকিং এ এগিয়ে দিয়ে থাকে।  তাই এসইও এর জন্য backlink এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে আপনি গেস্ট পোষ্টিং করতে পারেন। অন পেজ এসইও এবং অফ পেজ এসইও নতুন ওয়েবসাইটে সঠিকভাবে করলে ধীরে ধীরে আপনার সার্চ র্যাংকিং বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

আমি একটি বিষয় বাদ দিয়ে চলে এসেছি সেটি হলো টেকনিক্যাল এসইও (technical seo)।

টেকনিক্যাল এসইও (Technical SeO) কি?

টেকনিক্যাল এসইও হলো আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে কোন টেকনিক্যাল বা প্রযুক্তিগত সমস্যা আছে কিনা। তারপর আপনার ব্লগের টেমপ্লেট বা ডিজাইন মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা। টেকনিক্যাল এসইও এর অন্তর্ভুক্ত সমস্যাগুলো হলো

  • ওয়েবসাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা।
  • robots.txt ফাইলে কোন সমস্যা আছে কিনা।
  • সাইটম্যাপ সঠিকমত তৈরি করা হয়েছে কিনা।
  • Google crowler bot সঠিকমতো crowl করতে পারছে কিনা।
  • ওয়েবসাইটে আরও অন্য কোন error আছে কিনা ইত্যাদি।

এই error গুলো যদি আপনার ওয়েবসাইটে থাকে তাহলে আপনি Google search console থেকে জানতে পারবেন। সার্চ কনসোলে গিয়ে Menu>>Overview তে গিয়ে আপনি error গুলো সনাক্ত করতে পারবেন এবং সমাধান করে নিতে পারবেন।

Also Read – মোবাইল দিয়ে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করুন ৫ মিনিটে

গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার উপায় – (সম্পূর্ণ গাইডলাইন)

আমার শেষ কথা,,

আমি এই আর্টিকেলে “এসইও (SEO) কি এবং কিভাবে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য এসইও করতে হয়?” এই বিষয়ে সম্পূর্ণ আলোচনা করেছি।

সবশেষে আমার কথা হলো, আপনার ব্লগে Google analytics সেট আপ করে নিবেন এতে আপনি আপনার টার্গেটেট অডিয়েন্সদের সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাছাড়া কোন কনটেন্টে গুগল থেকে কেমন ট্রাফিক আসছে তাও দেখতে পারবেন।

তো আশা করি আমার সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে আমাকে জানাবেন। আর আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

1 thought on “এসইও (SEO) কি ? কিভাবে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য এসইও করতে হয় ?”

Leave a Comment