ইমেইল (Email) মানে কি ? ইমেইল এর কাজ, ব্যবহার এবং সুবিধা

ইমেইল (Email) কি?

ইমেইল কথাটির মানে হলাে ইলেক্ট্রনিক মেইল (Electronic Mail) বা ইলেক্ট্রনিক চিঠি। ইমেইলের মাধ্যমে আমরা কোনাে লেখা বা ছবি অন্য যেকোনাে ইমেইল ঠিকানায় ইলেক্ট্রনিকভাবে পাঠাতে পারি।

যাদের ইমেইল ঠিকানা থাকে তাদের প্রত্যেকের একটি করে মেইল বক্স (Mail box) থাকে। কোনাে ঠিকানা থেকে ইমেইল এলে তা মেইল বক্সে জমা হয়। ঠিকানাটি যার সে মেইল বক্স থেকে ইমেলটি যখন ইচ্ছা খুলে পড়তে পারে।

ইমেইল কি
ইমেইল কাকে বলে?

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলাে, এ চিঠি পড়ার ও পাঠানাের কাজটি প্রায় সময়ই বিনা পয়সায় করা যায়। এই ইমেইল পরিসেবার জন্য প্রয়োজন মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার এবং ডিভাইসে ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে লাগবে।

বর্তমানে ইমেইলের মাধ্যমে যােগাযােগ করার ব্যাপারটি অত্যন্ত সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

আপনার পরিচিত অনেককেই পেয়ে যাবেন, যাদের ইমেইল ঠিকানা আছে। আর একজনের ইমেইল এড্রেস (Email address) জানা থাকলে তাকে যেকোন সময় অতি সহজেই ইমেইল পাঠানো যাবে।

আজকালকার দিনে সকল স্মার্টফোন (smartphone) দিয়েই ইন্টারনেট ব্রাউজ (browse) করা যায়। তাই স্মার্টফোনের মাধ্যমেই ইমেইল যেমন পড়া যায়, তেমনি ইমেইল পাঠানােও যায়।

শুধু লেখা বা মেসেজই নয়, ইমেইলের সাথে আপনি যেকোনাে ফাইল যুক্ত করে পাঠাতে পারেন। বিভিন্ন রকম ফাইল, সেটি হতে পারে কোনাে ওয়ার্ড ডকুমেন্ট বা এক্সেল ফাইল বা ছবি।

আজকের দুনিয়ায় ইমেইল ছাড়া অনেক ব্যবসার কথা চিন্তাও করা যায় না।

সামান্য কয়েকটি ধাপে কাজ করলেই একটি ইমেইল ঠিকানা খােলা যায়। ইন্টানেটের সাথে সংযুক্ত একটি ডিভাইস যেমন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ অথবা মোবাইল থাকলেই বিনামূল্যে ইমেইল ঠিকানা খােলা যায়।

ইমেইল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাঠানাে যায়। ইমেইল গ্রহণের জন্য আপনার ডিভাইসটি খোলা থাকার কোনাে প্রয়ােজন নেই।

দিন রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনাে সময় ইমেইল পাঠানাে যায় আবার পড়াও যায়। একই চিঠি একসাথে অনেককে পাঠানাে যায়!

ইমেইল খােলার ব্যাপারে কিছু সতর্কতা জরুরি। যেমন অপরিচিত বা সন্দেহজনক ইমেইল এলে তা খােলা বা দেখা উচিত নয়। কারণ এর সাথে ভাইরাস এসে আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। অতএব সাবধান থাকতে হবে!

আশা করি ইমেইল কাকে বলে বুঝাতে পেরেছেন।

ইমেইল আইডি কিভাবে খুলতে হয় এ বিষয়ে আমি পরে বলে দেব।

প্রথমেই আমাদেরকে ঠিক করতে হবে কোন ইমেইল সেবাদাতার মাধ্যমে ইমেইল ঠিকানা খুলবেন।

কয়েকটি ইমেইল সেবাদাতা সাইট রয়েছে যেগুলো আমাদের ফ্রিতে ইমেইল সেবা দিয়ে থাকে। এরকম কয়েকটি সাইট হলো Gmail, Yahoo, Outlook, Hotmail ইত্যাদি।

কোনটি ব্যবহার করে ইমেইল ঠিকানা তৈরি করবেন?

আমার মতে, gmail.com থেকে ইমেইল ঠিকানা খোলা ভালো হয়। কারণ জিমেইল গুগলের সার্ভিস। কাজেই আপনি খুব ভালো সেবা এখান থেকে পাবেন।

ইমেইল আর জিমেইল কি এক? এই বিষয়ে এখন আমি আপনাদের বলবো।

আসলে ইমেইল এবং জিমেইল এর মধ্যে পার্থক্য কি এই প্রশ্নটি আসলে আমি বলবো, ইমেইল বলতে সবগুলো ইমেইল সেবাদাতা সাইটকে বোঝায় যেমন gmail, yahoo, hotmail ইত্যাদি।

আর জিমেইল বলতে একটি ইমেইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান www.gmail.com

বলা যায়, ইমেইল আর জিমেইলের মধ্যে পার্থক্য নেই।

ইমেইল (Email) এর ব্যবহার

বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের যুগ। ইন্টারনেটের এই দিনে অন্য একটা জগতের সৃষ্টি হয়েছে। যেটাকে বলা হয় ভার্চুয়াল (virtual) জগত। এই ভার্চুয়াল জগতে ইমেইল এর অনেক ব্যবহার রয়েছে।

ইন্টারনেটের প্রায় সকল জায়গায় ইমেইল এর ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইমেইল এড্রেস ছাড়া কোন কাজ সম্পন্ন করা যায় না। তাই আপনার একটি ইমেইল আইডি থাকা অবশ্যই প্রয়োজন।

ইমেইল এর অনেক ব্যবহারের মধ্যে ইমেইল এর কিছু কাজ বা ব্যবহার নিচে আমি উল্লেখ করেছি।

জিমেইল একাউন্ট কি কি কাজে লাগে?

আপনি যদি অন্য একজনের সাথে communication বা যোগাযোগ করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে ইমেইল ব্যবহার করতে হবে।

যেকোন একজনকে কোন ফাইল বা ডকুমেন্ট বা কোন ছবি পাঠাতে হলে ইমেইল ব্যবহার করতে হবে।

বর্তমানে দেখা যায়, আপনি যদি একটি নতুন smartphone বা android mobile phone কিনেন তাহলে মোবাইল টি সম্পূর্ণ চালু করতে একটি জিমেইল একাউন্ট অবশ্যই লাগবে।

যেমন, একটি নতুন এন্ড্রয়েড মোবাইল কেনার পর এপ্লিকেশন বা apps ইনস্টল করা অবশ্যই প্রয়োজন। সেই এপস ডাউনলোড এবং ইনস্টল করার জন্য Google play store ব্যবহার করতে হবে। এই play store এ সাইন আপ করার জন্য একটি জিমেইল আইডি অবশ্যই লাগবে।

ফেসবুক একাউন্ট নিরাপদ রাখার জন্য বা ফেসবুক আইডি secure করার জন্য একটি জিমেইল একাউন্ট যোগ করা আবশ্যক।

আপনি যদি ইউটিউব ব্যবহার করতে চান। যেহেতু ইউটিউব একটি সেরা ভিডিও শেয়ারিং সাইট। এই ইউটিউব চালানোর জন্য আপনাকে ইউটিউবে প্রথমে সাইন আপ করতে হবে এবং এর জন্য একটি ইমেইল ঠিকানা অবশ্যই দরকার হবে।

ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হলে একটি জিমেইল একাউন্ট থাকা লাগবে।

Google drive এর বিষয়ে আপনি জেনে থাকবেন। গুগল ড্রাইভে যেকোন ফাইল আপলোড করে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। গুগল ড্রাইভ আপনাকে ফ্রিতে 15 GB storage দিয়ে থাকে ফাইল সংরক্ষণের জন্য। প্রতিটি জিমেইল একাউন্ট এর জন্য আপনি গুগল ড্রাইভে ১৫ জিবি করে জায়গা পাবেন। এই জায়গা আপনি পাবেন যদি gmail.com এর মাধ্যমে ইমেইল ঠিকানা তৈরি করেন।

বর্তমানে ইন্টারনেটে অনেকগুলো ভালো ভালো ব্লগ রয়েছে। যেগুলোতে আমাদের রেজিস্ট্রেশন বা সাইন আপ করতে হয়। সাধারণত ব্লগে কনটেন্ট লেখা অথবা কমেন্ট করার ক্ষেত্রে জিমেইল এড্রেস দিতে হয়।

আপনি যদি ব্লগার (blogger.com) ব্যবহার করে একটি ফ্রি ব্লগ তৈরি করে সেখানে লেখালেখি করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনার ইমেইল ঠিকানার প্রয়োজন হচ্ছে।

আউটসোর্সিং করে ইনকাম করার জন্য জিমেইল আইডি প্রয়োজন।

উপরে আমি জিমেইল এর কাজ এবং ব্যবহারগুলো সম্পর্কে বলেছি। এছাড়াও আরও অনেক ব্যবহার রয়েছে। তো আশা করি, জিমেইল কিভাবে কাজ করে এ বিষয়ে ভালোভাবে জেনে গেছেন।

জিমেইল এর সুবিধা

ইমেইল ব্যবহারের সুবিধা এমনিতে অনেক রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি সম্পর্কে আমি নিচে বলে দিলাম।

ইমেইলের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ইমেইল পাঠানো যায়।

ইমেইল ব্যবহারের আরেকটি বড় সুবিধা হলো ইউটিউবের ক্ষেত্রে। আপনি যদি ইউটিউবে কোন চ্যানেলকে সাবস্ক্রাইব করে থাকেন, তাহলে সেই চ্যানেলে যখন কোন নতুন ভিডিও আপলোড করা হবে তখনই আপনার ইমেইলে নটিফিকেশন (notification) চলে আসবে।

আপনি যদি কোন ব্লগে ব্লগ পোষ্ট লিখেন আর সেই ব্লগ পোষ্টে কেউ কমেন্ট করে তাহলে ইমেইলের মাধ্যমে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আমরা অনেক সুবিধা পেয়ে যাই।

তাছাড়া যদি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইমেইল এড্রেস যোগ করা থাকে আর কেউ আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক করার চেষ্টা চালায় তা আপনাকে ইমেইলে মেইল করে জানিয়ে দেওয়া হবে এবং আপনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আর আপনি যদি জিমেইলের পাসওয়ার্ড ভুলে যান তাহলে অনেক সহজেই পাসওয়ার্ড রিসেট বা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একাউন্টে রিকভারি ইমেইল এবং রিকভারি মোবাইল নাম্বার যোগ করে নেবেন।

Leave a Comment