স্বদেশপ্রেম রচনা – অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণি

স্বদেশপ্রেম রচনা, সকল শ্রেণীর জন্য।

স্বদেশপ্রেম রচনা সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি

সূচনা:

স্বদেশের সজেগ জন্ম থেকেই মানুষের নাড়ির সম্পর্ক গড়ে ওঠে । তাই একজন মানুষ স্বদেশকে , দেশের মানুষকে এত ভালােবাসে । এ ভালােবাসাই হচ্ছে স্বদেশপ্রেম । স্বদেশের উন্নতির জন্য কাজ করা এবং প্রয়ােজনে জীবন দেওয়ার নামও স্বদেশপ্রেম ।

স্বদেশপ্রেম রচনা
স্বদেশ প্রেম রচনা

স্বদেশপ্রেমের চেতনা:

যে মাটিতে আমাদের জন্ম তাই আমাদের প্রিয় স্বদেশ । স্বদেশের আলাে – বাতাসে আমরা লালিত পালিত বর্ধিত হই । দেশের মানুষের চেতনার সঙ্গে আমাদের চেতনার মেলবন্ধন সৃষ্টি হয় । দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির আলােয় গড়ে ওঠে আমাদের মানস – চেতনা । এভাবে স্বদেশের প্রতি গভীর মমতা , ভক্তি ও শ্রদ্ধায় আপ্লুত হয় হৃদয় – মন । এভাবেই আমাদের অন্তরে অনুরণিত হয় স্বদেশপ্রেমের আবেগ । সে আবেগে আমরা গেয়ে উঠি , “ চিরদিন তােমার আকাশ তােমার বাতাস আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি । স্বদেশপ্রেমের মূলে রয়েছে বৃহত্তর ও সামগ্রিক এক জাতীয় চেতনা । একে আমরা বলি জাতীয়তাবােধ । স্বদেশপ্রেমে যখন আমরা উদ্বুদ্ধ হই তখন আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ তুচ্ছ হয়ে যায় । সামগ্রিকভাবে জাতীয় স্বার্থ , জাতীয় অগ্রগতি ও দেশের কল্যাণ হয়ে ওঠে আমাদের চিন্তা ও কর্মের প্রধান বিষয় ।

স্বদেশপ্রেমের পরীক্ষা:

স্বদেশপ্রেমের প্রকৃত পরীক্ষা হয় দেশ ও জাতির সংকটময় মুহূর্তে । বিশেষ করে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সময় । সে সময় জাতীয় চেতনায় উজ্জীবিত প্রতিটি দেশপ্রেমিক দেশের স্বার্থে জীবনদানকে নিতান্ত তুচ্ছ মনে করে । স্বদেশপ্রেমের পরীক্ষায় বার বার উত্তীর্ণ হয়েছে বাঙালি । ব্রিটিশবিরােধী স্বাধীনতার লড়াইয়ে জীবন দিয়েছেন তিতুমীর , বিনয় , বাদল , দীনেশ , প্রীতিলতা । ফাঁসির মঞ্চে জীবন উৎসর্গ করেছেন ক্ষুদিরাম , সূর্যসেন । জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে ব্রিটিশের দেওয়া ‘ নাইট ‘ উপাধি বিসর্জন দিয়েছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , কারাবরণ করেছেন বিদ্রোহী কবি নজরুল । বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছেন সালাম – বরকত, রফিক, জব্বার, শফিক । ১৯৭১ – এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন দিয়েছেন অনেক বীর যােদ্ধা । শহিদ হয়েছেন অনেক বুদ্ধিজীবী ও হাজার হাজার মুক্তিযােদ্ধা । তারা সবাই এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান । তাদের আত্মত্যাগে আমরা আজ স্বাধীন । তাঁদের দেশপ্রেমের শক্তিতেই আমরা ছিনিয়ে এনেছি বিজয় ।

স্বদেশপ্রেমের বিভিন্ন রূপ:

দেশপ্রেমের মহান রূপ দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া । বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি – সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে । ২৬ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে স্বাধীনতার ঘােষণা দেন । মুক্তিপাগল বাঙালি পাল্টা প্রতিরােধ যুদ্ধ গড়ে তােলে । ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে (বৈদ্যনাথতলা) তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় । সেই সরকারের নেতৃত্বে চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধ । বীর মুক্তিযােদ্ধারা ও সর্বস্তরের নারী – পুরুষ দেশপ্রেমের মহান ইতিহাস সৃষ্টি করে । অর্জিত হয় স্বাধীন স্বদেশ – ভূমি বাংলাদেশ । দেশের জন্য মঙ্গলজনক নানা কাজেও মানুষ স্বদেশপ্রেমের পরিচয় দেয় । নিরক্ষরতা দূরীকরণের কাজ যেমন দেশব্রতী কাজ , তেমনি দারিদ্র্য দূর করাও দেশব্রতী কাজ । দেশের মানুষের দুঃখ দূর করার কাজ যেমন দেশপ্রেমের কাজ , তেমনি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যেকোনাে আবিষ্কার কিংবা অবদানও দেশপ্রেমিকের কাজ । রবীন্দ্রনাথ , নজরুল , রােকেয়া , জগদীশচন্দ্র বসু , জয়নুল আবেদিন , ড . মুহম্মদ শহীদুল্লাহ , সুফিয়া কামাল প্রমুখ মনীষীর অবদানের মধ্যেও রয়েছে দেশপ্রেমের পরিচয় ।

অন্ধ দেশপ্রেমের বিপদ:

অনেক সময় উগ্র দেশপ্রেম তথা সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ মানুষকে অন্ধ সংকীর্ণতায় আবদ্ধ ও আচ্ছন্ন করে ফেলে । এভাবে প্রতিটি জাতি অন্ধ জাত্যভিমানে আচ্ছন্ন হলে পরিণামে তা জাতিতে জাতিতে সংঘাত ডেকে আনে । এ জাত্যভিমান পৃথিবীতে মহাযুদ্ধ ডেকে এনেছে । তাই অন্ধ জাতীয়তাবােধকে কখনাে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় । মনে রাখতে হবে , সত্যিকারের স্বদেশপ্রেম ব্যাপক মানবপ্রেমেরই অনুষঙ্গী । স্বদেশপ্রেম যখন জাতিতে জাতিতে মৈত্রী ও সৌভ্রাতৃত্ব রচনা করে , তখনই তা হয় সার্থক ।

উপসংহার:

একুশ শতকে পদার্পণ করেছে মানবজাতি । ছােটো হয়ে এসেছে পৃথিবী । শুরু হয়েছে দেশে দেশে , জাতিতে জাতিতে সহযােগিতার নতুন পর্ব । এই নতুন পরিস্থিতিতে অন্ধ স্বদেশপ্রেম যেন আমাদের আচ্ছন্ন না করে । দেশপ্রেমের মধ্য দিয়েই আমাদের বিশ্বের মানুষকে ভালােবাসতে হবে । দেশপ্রেমের উত্তরণ ঘটাতে হবে বিশ্বপ্রেমে । এ চেতনা থেকে নিজের দেশের কল্যাণে ব্রতী হয়েই বিশ্বের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে ।

স্বদেশপ্রেম রচনা নবম ও দশম শ্রেণি

স্বদেশপ্রেম রচনা

ভূমিকা: জন্মভূমির প্রতি ভালােবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা দেখানােই হচ্ছে স্বদেশপ্রম । স্বদেশপ্রীতি মানুষের মাঝে জন্ম দেয় মহৎ হওয়ার গুণাবলি । ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে , স্বদেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ ’ । প্রতিটি মানুষ জন্ম নেয় পৃথিবীর একটা নির্দিষ্ট ভূ – খণ্ডে যা তার কাছে স্বদেশ । এই স্বদেশের সঙ্গেই গড়ে ওঠে তার নাড়ির সম্পর্ক । স্বদেশের জন্য তার মনে জন্ম নেয় এক নিবিড় ভালােবাসা । দেশের প্রতি এই অনন্য ভালােবাসাই হচ্ছে স্বদেশপ্রেম । এই প্রেমই স্বদেশের প্রতি আমাদের অনুরক্ত করে তােলে । কবিকণ্ঠে তাই হৃদয়মথিত প্রগাঢ় উচ্চারণ ও আমার দেশের মাটি , তােমার ‘ পরে ঠেকাই মাথাা।

স্বদেশপ্রেমের স্বরূপ: দেশপ্রেম জাগ্রত হয় মূলত আত্মসম্মানবােধ থেকে । যে জাতির আত্মসম্মানবােধ যত প্রখর , সে জাতির দেশপ্রেম তত প্রবল । আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাস এ স্বদেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জ্বল । ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন , ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ আমাদের স্বদেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । দেশকে গভীরভাবে ভালােবাসলেই কেবল বলা যায় , ‘ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী ’ । নিজের প্রতি ভালােবাসা থেকেই জন্ম নেয় স্বদেশের প্রতি ভালােবাসা । স্বদেশের মাটি বাতাস পানির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য । জন্মভূমির ভাষা , সাহিত্য , সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার শেকড়ের বন্ধন । মা , মাতৃভূমি আর মাতৃভাষারপ্রতি মানুষের যে চিরায়ত ভালােবাসা তারই আবেগময় প্রকাশ ঘটে স্বদেশপ্রেমের মধ্যে । স্বদেশপ্রেমের আবেগময় বাণীকূপ আমরা দেখতে পাই রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ বন্দনায়- সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে । সার্থক জনম মা গাে , তােমায় ভালােবেসে ।

স্বদেশপ্রেমের অভিব্যক্তি: দেশপ্রেম প্রাণহীন শব্দমাত্র নয় । নিছক কোনো বিমূর্ত আদর্শও নয় । দেশপ্রেম এক পবিত্রতম অনুভূতি , এক দ্রোহের উচ্চারণ । দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি গভীর আকর্ষণ থেকেই স্বদেশপ্রেমের জন্ম । এ কারণে জন্মভূমিকে মানুষের কাছে স্বর্গের চেয়েও সেরা মনে হয় । এই স্বদেশ চেতনাই কবি জীবনানন্দের অন্তরে সঞ্চার করেছিল এক গভীর অভিব্যক্তি বাংলার রূপ আমি দেখিয়াছি , তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর । স্বদেশপ্রেম মানবচিত্তে ফন্ন ধারার মতাে সদা বহমান । কিন্তু বিশেষ বিশেষ সময়ে , বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে তার আবেগােছল প্রকাশ ঘটে । যখন দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তােলার প্রয়ােজন হয় , তখন ধর্ম – বর্ণ গােত্রভেদের ঊর্ধ্বে দেশাত্মবােধের চেতনা দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে । স্বদেশপ্রেমের সেই শুভ উদ্বোধনে তখন অন্তর জুড়ে । বাজে স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা , স্মৃতি দিয়ে তৈরি স্বদেশ বন্দনার গান : সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি । ‘ আবার কখনাে পরাধীনতার দুঃখ বেদনায় , ভিনদেশি শাসকের শাসন – শােষণ – নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুক্তিতে শামিল হওয়ার সময়ে স্বদেশপ্রেম জাতীয় জীবনে ঐক্য ও প্রেরণার সৃষ্টি করে । স্বদেশপ্রেম দেশ ও জাতির অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রেরণাময় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে । জাতি – ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একই চেতনায় একপ্রাণ হয়ে মহৎ লক্ষ্য সাধনে ব্রতী করে । কখনাে কখনাে স্বদেশপ্রীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটে বিদেশে ভিন্নতর জীবন – পরিবেশে । তখন স্বদেশের মানুষ ও প্রকৃতির জন্য জাগে অসীম আকুলতা । দীর্ঘ প্রবাস জীবনে অনেক সুখের মধ্যে থেকেও দেশের তরুলতা ঘেরা ছায়াচ্ছন্ন জীর্ণ কুটিরের জন্য মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে । যেমনটি ঘটেছিল মাইকেল মধুসূদনের ক্ষেত্রে বহুদেশ দেখিয়াছি বহু নদ – দলে কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে ? ‘

স্বদেশপ্রেমের ভিন্নতর বহিঃপ্রকাশ: স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ বিভিন্ন ভাবে ঘটতে পারে । কেবল সংকটে , স্বাধীনতা সংগ্রামেই যে দেশপ্রেমের স্ফুরণ হয় এমন নয় । শিল্প – সাহিত্য চর্চায় , দেশগঠন , জ্ঞান – বিজ্ঞানের সাধনাতেও স্বদেশপ্রেমের বহিপ্রকাশ ঘটে । দেশের কল্যাণে ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে , বিশ্ব সভ্যতায় অবদান রেখে দেশের গৌরব বাড়ানাে যায় । বিশ্বসভায় দেশ মহিমান্বিত আসন লাভ করতে পারে । রবীন্দ্রনাথ , নজরুল , জগদীশচন্দ্র বসু , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান , এফ , আর , খান প্রমুখের অবদানে বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়ে আছে ।

স্বদেশপ্রেম  বিশ্বপ্রেম: স্বদেশপ্রেম বিশ্বপ্রেমেরই একটি অংশ । তাই প্রকৃত স্বদেশপ্রেম ও বিশ্বপ্রেমের মধ্যে কোনাে বিরােধ থাকতে পারে না । স্বদেশপ্রেম যদি বিশ্বমৈত্রী ও আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের সহায়ক না হয় তবে তা প্রকৃত দেশপ্রেম হতে পারে না । স্বদেশবাসীকে ভালােবাসার মধ্য দিয়ে মানুষ বিশ্ববাসীকে ভালােবাসতে শেখে । স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে বিশ্বমৈত্রীর গভীর যােগসূত্র আছে বলেই রবীন্দ্রনাথ , শেকসপিয়র , আইনস্টাইন কেবল স্ব – স্ব দেশের নন , তারা সমগ্র মানব জাতির ।দেশপ্রেমের উজ্জ্বল প্রতিভূ পৃথিবীর দেশে দেশে যারা দেশপ্রেমের উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করে বরণীয় – স্মরণীয় হয়ে আছেন তারা সারা বিশ্বের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালােবাসায় সিক্ত । উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যেসব বাঙালি অসামান্য অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে নেতাজি সুভাষ বসু , চিত্তরঞ্জন দাশ , এ . কে . ফজলুল হক , মওলানা ভাসানি জাতিকে নবচেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন । ইতালির গ্যারিবান্ডি , আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন , রাশিয়ার লেনিন , চীনের মাও সেতুং , ভিয়েতনামের হাে চি মিন , তুরস্কের মােস্তফা কামাল পাশা , ভারতের মহাত্মা গান্ধী প্রমুখ দেশপ্রেমের জন্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন । ১৯৭১ – এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের দেশপ্রেম বিশ্বের কাছে অবাক বিস্ময় হয়ে আছে ।

উপসংহার: মানুষের জীবনে দেশপ্রেম এক মহৎ চেতনা । এটি মানুষকে স্বার্থপরতা , সম্প্রদায় ও গােষ্ঠীগত সংকীর্ণতা , রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভেদাভেদ থেকে উর্ধ্বে উঠতে সহায়তা করে । উদ্বুদ্ধ করে দেশের কল্যাণে স্বার্থত্যাগ করে আত্মনিবেদন করতে । তাই ক্ষমতার লােভ ও দলীয় স্বার্থ চিন্তা কখনাে সত্যিকার দেশপ্রেম হতে পারে না । বাংলাদেশ আজ স্বাধীন । একুশ শতকের পৃথিবীতে বিশ্বসভায় মাথা তুলে দাঁড়ানাের জন্য আজ দরকার দেশগঠনের কাজে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করা । এজন্য আজ চাই সমৃদ্ধ দেশ গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় জাগরণ । তাহলেই দেশ সামাজিক , সাংস্কৃতিক , অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারায় অগ্রসর হতে পারবে । প্রিয় মাতৃভূমিকে তাই মাতৃজ্ঞান করে শ্রদ্ধা ও ভালােবাসা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে।

স্বদেশপ্রেম রচনা দুইটি আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।

Leave a Comment