ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম – (বাংলা ২য় ভাবসম্প্রসারণ)

বন্ধুরা, আমার এই আর্টিকেলটি হচ্ছে “ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম” সম্পর্কে।

এখানে আমি ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম গুলো বর্ণনা করব। একটি ভাল মানের ভাবসম্প্রসারণ লেখার জন্য  এই নিয়মগুলো অবশ্যই অনুসরণ করা প্রয়োজন।

ভাব-সম্প্রসারণ কি ?

কোনাে বাক্যে , কিংবা কবিতাংশে অনেক সময় বিপুল ভাব নিহিত থাকে । কবি – সাহিত্যিকের রচনার কোনাে অংশে কিংবা লােকমুখে প্রচলিত প্রবাদ – প্রবচনে লুকিয়ে থাকে গভীর জীবন – সত্য । এই সংহত ভাব বিস্তৃত করে লেখার নাম ভাবসম্প্রসারণ ।

ভাবসম্প্রসারণের সময় যুক্তি , দৃষ্টান্ত ও প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি দিয়ে অন্তর্নিহিত মূল ভাটুকু বিশদ করা হয়ে থাকে ।

ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম গুলো হলো:

১. উদ্ধৃত অংশ বার বার মনােযােগ দিয়ে পড়ে তার ভেতরের ভাবটি বুঝতে চেষ্টা করা । মূলভাবের সংকেত উদ্ধৃতির কোন অংশে প্রচ্ছন্ন রয়েছে , তা খুঁজে বের করতে পারলে ভাববস্তু বােঝা সহজ হয় ।

২. উদ্ধৃত অংশে সাধারণত মূলভাব একটিই হয়ে থাকে । তাই সেই ভাবটি বুঝে নিয়ে সেটির সম্প্রসারণ করতে হবে ।

৩. ভাবসম্প্রসারণ অনুশীলন করার সময় অভিধান দেখে অপরিচিত শব্দের অর্থ জেনে নেওয়া উচিত । ভাবসম্প্রসারণের দৈর্ঘ্য সম্বন্ধে ধরাবাধা কোনাে নিয়ম নেই । তবে তা প্রবন্ধের মতাে বড়াে কিংবা সারমর্মের মতাে ছােটো হয় না । ভাবসম্প্রসারণের বাক্য সংখ্যা এ স্তরে ১০ টির কম ও ১৫ টির বেশি না হওয়াই ভালাে ।

৪. মূল ভাবটিই সহজ সরল ভাষায় সম্প্রসারিত বা বিশদ করতে হবে । একই ধরনের কথা বার বার লিখবে না । অন্য কোনাে নতুন ভাব ও অবান্তর কথা যেন এসে না যায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে ।

৫. উদ্ধৃত অংশে কোনাে উপমা বা রূপক থাকলে তার অন্তনিহিত তাৎপর্য ভালােভাবে ফুটিয়ে তােলার চেষ্টা করতে হবে ।

৬. ভাবসম্প্রসারণ লেখার সময় কোনাে রকম শিরােনাম দেওয়ার দরকার পড়ে না । লেখকের বা কবির নামও উল্লেখ করতে হয় না । কিংবা ব্যাখ্যার মতাে কবি বলেছেন ধরনের বাক্যাংশ ব্যবহার করতে হয় না ।

৭. ভাবসম্প্রসারণের জন্যে দেওয়া কথাটিতে সাধারণত প্রকাশ্য বক্তব্যের আড়ালে গভীর ভাৰসত্য লুকিয়ে থাকে । যেমন : সবুরে মেওয়া ফলে ‘ কথাটির আক্ষরিক অর্থ ‘ গাছের ফল পেতে হলে অপেক্ষা করতে হয় । কিন্তু এর গভীর ভাৰসত্য হলাে জীবনে সাফল্য অর্জন করতে হলে চাই ধৈর্য , প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম ।

৮. ভাবসম্প্রসারণ করার সময় প্রথমে প্রকাশ বা আক্ষরিক অর্থের দিকটি বলে পরে অন্তর্নিহিত ভাবটি বিশদ করতে হয় ।

উদাহরণস্বরূপ ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম গুলো অনুসরণ করে নিচে দুইটি ভাব-সম্প্রসারণ দেওয়া হলো:

সঙ্গদোষে লােহা ভাসে ।

মূলভাব: মানুষকে জীবনের নানা প্রয়ােজনে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয় । তার মধ্য থেকে উত্তম সঙ্গী বেছে নেওয়া অত্যন্ত আবশ্যক । কেননা উত্তম সঙ্গ যেমন জীবনকে মধুময় করতে পারে , তেমনি অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ হতে পারে । সম্প্রসারিত ভাব : জগতের প্রত্যেকেই স্বাধীন সত্তার অধিকারী । চিন্তা – চেতনা ও কর্মে প্রত্যেক মানুষ আলাদা । মানুষ নিজেই তার বিবেককে নিয়ন্ত্রণ করে । কিন্তু তবুও সঙ্গের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয় । কেননা মানুষ তার চারপাশের পরিবেশ এবং সঙ্গ দ্বারা প্রভাবিত হয় । এক্ষেত্রে তাই উপযুক্ত সঙ্গী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তাই যে ব্যক্তি উন্নত ও সৎ চরিত্রের অধিকারী হতে চায় তাকে অবশ্যই সৎ ও উন্নত মানসিকতার ব্যক্তির সঙ্গে মিশতে হবে । যে সব বস্তু সুন্দর ও রমণীয় সেসব বস্তুর সংস্পর্শে যেসব বস্তু থাকে সেগুলােও সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে । সৎ স্বভাবের লােকদের সঙ্গে মেলামেশায় খারাপ মানসিকতার অধিকারী ব্যক্তিও তেমনি উন্নত মানসিকতার অধিকারী হতে পারে । অন্যদিকে অসাধু ব্যক্তির সাথে মেলামেশার ফলে সৎ ব্যক্তিও অসঙ্কর্মে লিপ্ত হতে পারে । প্রকৃতপক্ষে সজা মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে । সে জন্য সৎ ও যােগ্য সঙ্গী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

মন্তব্য: সঙ্গের কারণে মানুষের চরিত্রে নানামুখী পরিবর্তন সাধিত হয় । তাই উত্তম সঙ্গ লাভের বিষয়ে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি ।

লােভে পাপ , পাপে মৃত্যু ।

মূলভাব: লােভ মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে দেয় । অসৎ উপায় অবলম্বন করতে প্ররােচিত করে । লােভী মানুষ তাই পাপকার্য করতে দ্বিধাবােধ করে না । লােভের পরিণাম অতি ভয়াবহ , এমনকি মৃত্যুও বিচিত্র নয় । সম্প্রসারিত ভাৰ : লােভ মানব চরিত্রের এক অন্ধকার দিক । লােভ থেকেই জাগতিক যাবতীয় পাপের উৎপত্তি । লােভের মায়ামমাহে আচ্ছন্ন থেকে মানুষ সত্য ও সুন্দরকে অবজ্ঞা করে । সে বৈষয়িক বুদ্ধির প্রেরণায় পার্থিব ধন সম্পদ আহরণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে । কিন্তু যখনই সে তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় , তখন নির্দ্বিধায় নিমজ্জিত হয় পাপাচারে । সে ক্রমশ অবৈধ ও জঘন্য পথে অগ্রসর হয় । তাই লােভী মানুষ এসময় হয়ে ওঠে পশুর মতাে । সত্যের জয় আর অসত্যের বিনাশ অনিবার্য । লােভী মানুষ নিজের সেই পরিণতির কথা ভুলে যায় । আর এভাবেই লােভ মানুষকে ধ্বংসের পথে টেনে নেয় । অপরপক্ষে নির্লোভ ব্যক্তি পাপমুক্ত সত্য ও সুন্দর জীবন লাভ করে । তার জীবনে ভােগের তাড়না নেই । ফলে তার মাঝে লােভ এবং পাপের অস্তিত্বও নেই । লােভী ব্যক্তিরাই পথভ্রষ্ট হয় । অন্যায় , অসত্য আর পাপের পথে ধাবিত হয়ে অকাল মৃত্যুর মুখােমুখি হয়়।

মন্তব্য: লােভ বর্জন না করলে জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করা যায় না । নির্লোভ মানুষ সকলের শ্রদ্ধা ও ভক্তি অর্জন

Leave a Comment