পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার উপায় – (Top Tips)

আজকে আমি আলোচনা করব পরীক্ষায় ভালো করার উপায় নিয়ে আসলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার তেমন কোনো কঠিন কাজ নয় আবার ভালো ফলাফল করার তেমন কোনো সহজ কাজ নয় পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য আপনাকে পরিশ্রম অবশ্যই করতে হবে

একজন স্টুডেন্ট হিসেবে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কারণ লেখাপড়া করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরীক্ষা দেওয়া আসলে একটা ক্লাসে আমরা কিরকম লেখাপড়া করি তা মূল্যায়ন করা হয় পরীক্ষার মাধ্যমে তাই একজন স্টুডেন্ট এর যেকোনো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার অনেক জরুরী

কারণ যেকোনো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলে আমাদের বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে ভালো ফলাফল বা এ প্লাস পাওয়ার সুযোগ থাকে আর এ প্লাস পেলে তো একটি মূল্যবান সার্টিফিকেট অবশ্যই পাওয়া যাবে আর একজন স্টুডেন্ট এর একটি মূল্যবান সার্টিফিকেট পাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ

পরীক্ষার ফলাফল ভালো না হলে বাড়িতে মা-বাবার ব্লকা অবশ্যই খেতে হয়। তাছাড়া আমরা নিজেও পড়াশোনা করি ভালো ফলাফলের জন্য তাই যদি ফলাফল ভালো না হয় তাহলে নিজের মন খারাপ হওয়ার কথা।

আসলে কিছু কৌশল অবলম্বন করে পড়াশোনা চালিয়ে গেলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার সম্ভাবনা অবশ্যই থাকে

কিন্তু আমরা যারা ভালো রেজাল্ট করতে পারিনা তারা অবশ্যই সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে পড়াশোনা করি না কিংবা করতে পারিনা।

আমরা যখন বছরের শুরুতে নতুন বই পাই তখন প্রায় সবাই প্রতিজ্ঞা করি আগে ফলাফল কি হয়েছে হোক এবার আমাকে ভালো করতেই হবে

এই প্রতিজ্ঞা টা নিয়েই আমরা নতুন বই পড়া শুরু করি কিন্তু কিছুদিন পর আমরা সেটা ভুলে যাই

ভুলে যাওয়ার ফলে পরীক্ষার কথাটা আমাদের যেমন মনে থাকে না আর পড়াশোনায় আলসেমি এসে যায়

তাই আমি এই আর্টিকেল এ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার উপায় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করব।

আসলে আপনার ফলাফল ভালো হবে কি হবে না তা আপনার নিজের মধ্যেই লিপিবদ্ধ আমি জাস্ট কিছু টিপস বা পদ্ধতি সম্পর্কে কথা বলব

আসলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে সমান মেধা শক্তি দিয়ে পাঠিয়েছেন কিন্তু যারা সেই মেধাশক্তির সঠিক ব্যবহার করতে পেরেছে তারাই জীবনে সফলতা লাভ করতে পারবে

আর যারা মেধাশক্তির সঠিক ব্যবহার করতে পারে না তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই কম এবং ফলস্বরূপ তারা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে ব্যর্থ হয়

অনেক সময় দেখা যায় যে একজন শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট সারাদিন পড়ার টেবিলে বসে লেখাপড়া করে কিন্তু পরীক্ষার বেলায় তার ফলাফল তেমন ভাল হয় না আর একজন স্টুডেন্ট অল্প কিছু সময় ধরে লেখাপড়া করেও পরীক্ষায় তার ফলাফল ভালো হতে দেখা যায়

আসলে এর কারণ হলো আমরা যা কিছু করব সবকিছু বুঝে পড়ার চেষ্টা করব একদম মুখস্ত না করে সেটা বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করতে হবে এবং না দেখে লিখতে পারতে হবে।

যে স্টুডেন্ট সরাসরি কোনো কিছু মুখস্থ না করে বুঝি বুঝি পরে সে নিঃসন্দেহে একজন ভালো স্টুডেন্ট।

পড়ার একটি রুটিন তৈরি করুন

সঠিকভাবে পড়াশোনা করার জন্য একটি রুটিন তৈরি করা জরুরি

কারণ আপনি যদি প্রতিদিনের পড়ার একটি রুটিন তৈরি করে নেন তাহলে আপনি প্রতিদিন সেই রুটিন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করতে পারবেন এতে আপনার লাভ অবশ্যই হবে

আর এক্ষেত্রে রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত পড়াশোনা করতেই হবে আপনি প্রতিদিন ঘরে তিন থেকে চার ঘণ্টা পড়াশোনা করতে পারে

আর মনে রাখতে হবে যে এই তিন থেকে চার ঘন্টায় আপনাকে পড়তে হবে এর থেকে কম সময়ে পড়ার চেষ্টা করা যাবে না

যদি আপনি প্রতিদিন এই সময়টুকু ধরে পড়ালেখা করেন তাহলে হিসাব করে দেখুন মাসে কত ঘন্টা আপনি পড়াশোনা করছেন এবং বছরে কত ঘন্টা পড়ছেন।

সুতরাং আপনাকে পড়াশোনা করার জন্য একটি রুটিন অবশ্যই তৈরি করে নিতে হবে এবং সেই রুটিন অনুসারে প্রতিদিন পড়ালেখা করতে হবে।

আর তার সাথে এই নিয়মটি আপনার অনেক উপকারে আসবে বলে আমি মনে করি এটি হলো সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে আপনি যে পড়াশোনা গুলো করেছেন তার সপ্তাহের শেষের দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সবগুলো প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রিভিশন করে নিন।

একজন ভাল স্টুডেন্ট হিসেবে ক্লাসের পড়া নোট করা অবশ্যই করণীয় কারণ এই গাছটি লেখাপড়ার ক্ষেত্রে খুবই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে তাই আপনাকে ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ লেকচার নোট করে নিতে হবে অনেক সময় দেখা যায় যে ক্লাসে শিক্ষক কি বললেন বাকি পড়ালেন তা বাসায় এসে পড়ার সময় ভুলে যায় এবং মনে থাকে না তখন সে বরাটি পড়তে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় তাই একজন ভাল স্টুডেন্ট এর অবশ্যই কর্তব্য হলো শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ লেকচার খাতায় নোট করে নেওয়া।

এই গাছটি শিক্ষকের লেকচার শোনারসময় করতে হবে আবার শিক্ষক কি বলছেন তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে

প্রতিদিনের হোমওয়ার্ক সঠিক মত করা

আপনাকে স্কুলের ক্লাসের শিক্ষকের দেওয়া প্রতিদিনের হোমওয়ার্ক প্রতিদিন ঐ সঠিক মত শেষ করে শিক্ষককে জমা দিতে হবে। এতে আপনার প্রতিদিনের পড়ার প্রাক্টিস বা অনুশীলন অবশ্যই হবে।

চেষ্টা করবেন নিয়মিত হোমওয়ার্ক জমা দেওয়ার।

পড়া না দেখে লিখতে পারতে হবে

আসলে পরীক্ষায় আমাদের সবকিছু না দেখেই লিখতে হয়। তাই আপনি যে পড়াটি পড়বেন সেটি একবার হলেও না দেখে লিখার চেষ্টা করুন। এতে আপনার না দেখে লিখার প্র্যাকটিস অবশ্যই হবে এবং এর একটি ভালো উপকার হলো যে বরাটি আপনি পড়ার পর না দেখে লিখবেন সেটি সহজেই মনে থেকে যায়।

গ্রুপ স্টাডি বা বন্ধুদের সাথে আলোচনা করা

পড়াশোনার ক্ষেত্রে গ্রুপ ওয়ার্কবন্ধুদের সাথে আলোচনা করার উপকার অনেক রয়েছে।

আপনি যদি ক্লাসে কোন একটি পাঠের বিষয় বন্ধুদের সাথে আলোচনা করেন কিনবা যেকোনো প্রশ্নের উত্তর একে অপরকে বলেন তাহলে এই বিষয়টি ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম রয়েছে। তাই ক্লাসের অযথা বসে না থেকে গ্রুপ ওয়ার্ক বা বন্ধুদের সাথে আলোচনা করার চেষ্টা করবেন

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নোট তৈরি করা

আমরা যারা স্কুল লেভেল বা মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলের পড়াশোনা করি তাদের সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হলো গণিত পদার্থবিজ্ঞান রসায়ন জীববিজ্ঞান ইত্যাদি।

এই বিষয়গুলো নিয়ে নোট খাতা তৈরি করতে হবে অর্থাৎ প্রত্যেক বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা মোর থাকবে সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অথবা নোট সেখানে করা থাকবে এতে পরবর্তীতে আপনার সেই পড়াটি রিভিশন করতে সুবিধা হবে।

সূজনশীল প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে সাজিয়ে লিখতে পারা

পরীক্ষা ভালো করার জন্য সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই সঠিক ভাবে লিখতে পারতে হবে। কারণ সৃজনশীল প্রশ্নের খুব ভালো মার্কস পাওয়া যায় আমার উত্তরগুলো নিয়ম অনুসরণ করে লিখতে হয়। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় উত্তরটি সাজিয়ে গুজিয়ে ভালো ভাবে উপস্থাপন করা অবশ্যই জরুরি তাই আপনাকে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা খুব ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে যাতে পরীক্ষায় ভালো ভাবে লিখতে পারা যায়।

ক্লাসে মনোযোগী থাকা

যে কোন ক্লাসে মনোযোগী থাকার চেষ্টা করবেন কারণ যদি মনোযোগী হোন না হোন তাহলে শিক্ষকের কথাগুলো ভালোভাবে শোনার সম্ভব হবে না এবং এতে ক্ষতি হতে পারে। তাই ক্লাসের সব সময় মনোযোগী থাকার চেষ্টা করতে হবে।

আরো কিছু বিষয় পরিহার করুন

আপনাকে বছরের শুরু থেকেই ভালোভাবে পড়তে হবে। কারণ যদি প্রথম থেকেই ভালো ভাবে পড়ানো যায় তাহলে পড়াগুলো একসময় এসে অনেক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং সেগুলো কমপ্লিট করা অনেক কঠিন কাজ হয়ে যাবে।

তাই শুরু থেকেই ভালোভাবে পড়া শুরু করতে হবে।

সকল বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে

বাংলা ইংরেজি গণিত বিজ্ঞান বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সকল বিষয়কে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

অর্থাৎ গণিতেও ১০০ নম্বর এবং ধর্মেও ১০০ নম্বর। গণিতে ১০০ এর মধ্যে ৯০ এবং ধর্মে ৭৮ পেলেও ভালো ফলাফল সম্ভব নায়।তাই এক্ষেত্রে সকল বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

আর ভালো স্টুডেন্ট হিসেবে আপনাকে সব সময় প্রাক্টিস বা অনুশীলন অবশ্যই বেশি বেশি করে করতে হবে। কোথায় আছে practice makes a man perfect. আপনার যে বিষয়টিকে সমস্যা রয়েছে সেটি যদি বেশি বেশি অনুশীলন করেন তাহলে সে বিষয়টি ভালোভাবে আয়ত্তে আসবে। তাই একটি জটিল বিষয়ে বেশি বেশি অনুশীলন করলে সেটি একসময় সহজ হয়ে যাবে।

Leave a Comment