কম্পিউটার কি ? কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে ?

যুগে যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের হাতে অভাবনীয় সব যান্ত্রিক ব্যবস্থা তুলে দিয়েছে । সেসবের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলাে কম্পিউটার । এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাারা জানতে পারবেন,

কম্পিউটার কি ? এবং কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে ?

কম্পিউটার কি ? কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে ?
কম্পিউটার কী ? কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে ?

বিশ শতকে আবিষ্কৃত এ যন্ত্রটিকে বলা যায় একটি যন্ত্রমস্তিষ্ক । শক্তিশালী অথচ অনুগত এ যন্ত্রের ব্যবহার করা যায় অত্যন্ত সহজে । তাকে লাগানাে যায় বহুমুখী ও বিচিত্র সব কাজে ।

ফলে খুব কম সময়েই মানবসভ্যতা হয়ে পড়েছে কম্পিউটার নির্ভর ।

এটি এমন এক দ্রুতগতিসম্পন্ন যন্ত্র যা মানুষের কার্যক্ষমতা বাড়িয়েছে , বাড়িয়েছে দক্ষতা ও নিয়ন্ত্রণ শক্তি ।

তা মানুষকে রেহাই দিয়েছে অনাবশ্যক মানসিক শ্রম থেকে ।

কমপিউটার কি ?

কমপিউটার (Computer) শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন কমপুটেয়ার (Computare) থেকে। যার ইংরেজি অর্থ কমপিউট (Compute) বা গণনা করা ।

সে হিসেবে কমপিউটারের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র ।

কমপিউটার একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা মানুষের দেওয়া তথ্য যুক্তিসঙ্গত নির্দেশের ভিত্তিতে অতি দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে গণনার কাজ করে তার সঠিক ফলাফল প্রদান করতে পারে ।

তবে বর্তমানে কমপিউটার শুধু গণনার কাজেই নয় , প্রায় সব ধরনের কাজে ব্যবহৃত হয় ।

যেমনঃ লেখাপড়া করা , মুদ্রণ করা , তথ্য সংরক্ষণ করা , গান শােনা , সিনেমা দেখা , খেলা করা , টেলিফোন করা , দেশ – বিদেশের সাথে তথ্যের আদান – প্রদান করা ইত্যাদি ।

কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে ?

আভিধানিক অর্থে কম্পিউটার এক ধরনের গণনা যন্ত্র । কিন্তু এখন এর কাজ কেবল গণনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয় । বরং আধুনিক কম্পিউটার হলাে এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা অনেক তথ্য বা উপাত্ত (Data) গ্রহণ ও ধারণ করতে পারে এবং উপাত্তগুলােকে গাণিতিক যুক্তিমূলক ইত্যাদি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ।

অনেকটা মানুষের মস্তিষ্কের মতাে কাজ করে বলে কম্পিউটারকে বলা হয় যন্ত্রমস্তিষ্ক ।

কম্পিউটারের যন্ত্রমগজে রয়েছে তিনটি সুস্পষ্ট অংশ:

১. ইনপুট: এ অংশ উপাত্ত বা ডাটা গ্রহণ করে।

২. সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ):

এ অংশ গৃহীত ডাটার ওপর বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং ডাটা ও ফলাফল সংরক্ষণ করে ।

৩. আউটপুট: ফলাফল প্রকাশ করে ।

কমপিউটার তিনটি ধাপে কাজ করে।

নিচে এ ধাপগুলাের বর্ণনা দেয়া হলাে:

১. ইনপুট ও প্রসেস করার জন্যে কমপিউটারে তথ্য বা নির্দেশ দেওয়া হয় । একে ইনপুট বলা হয় ।

বিভিন্ন ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে কমপিউটারে তথ্য ইনপুট করা হয় । ইনপুট করা তথ্য কিভাবে প্রসেস হবে সেজন্যে বিভিন্ন নির্দেশও ইনপুট করা হয়।

২. প্রসেস ও কমপিউটার তার মেমােরিতে ইনপুট করা তথ্য নিয়ে নির্দেশ অনুসারে প্রসেস করে।

৩. আউটপুট ও নির্দেশ অনুসারে প্রসেস করার পর ফলাফল দিয়ে থাকে । একে আউটপুট বলা হয় ।

সাধারণত মনিটরের স্ক্রিনে প্রদর্শন করে অথবা প্রিন্টারের মাধ্যমে কাগজে ছাপিয়ে কমপিউটার আউটপুট দিয়ে থাকে।

কমপিউটার ইনপুট হিসেবে পাওয়া ডেটা নিয়ে নির্দেশ অনুসারে প্রসেস করে ফলাফল মনিটরের স্ক্রিনে দেখায় এবং প্রিন্টারের মাধ্যমে কাগজে ছাপায় ।

কম্পিউটারে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নামক দুটো অংশ আছে ।

কম্পিউটারের বাহ্যিক সকল যন্ত্রপাতি অর্থাৎ মনিটর, মাউস, কি-বাের্ড, হার্ডডিস্ক, র্যাম, প্রিন্টার, স্ক্যানার ইত্যাদি হার্ডওয়ার এর অন্তর্গত ।

অপরদিকে সফটওয়ার হলাে কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রােগ্রাম সমষ্টি ও কম্পিউটারের ভাষার সমন্বয়ে গঠিত এমন একটি অংশ যা হার্ডওয়ারগুলােকে নিয়ন্ত্রণ করে ।

কম্পিউটারের বড় সুবিধা হলাে তথ্য ও প্রােগ্রামের রদবদল বা সংযােজন ঘটিয়ে একে দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নানারকম কাজ করানাে চলে ।

এর উপযােগিতামূলক মূল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে:

  1. অত্যন্ত দ্রুত গতি।
  2. বহু তথ্য ধারণ ক্ষমতা।
  3. তথ্য বিশ্লেষণের নির্ভুল ক্ষমতা।
  4. ডাটা ও প্রােগ্রাম অনুসারে কাজ করার ক্ষমতা ।

কম্পিউটারের উদ্ভাবন

আধুনিক কম্পিউটারের সূত্রপাত হয় ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ গণিতবিদ চালর্স ব্যাবেজের গণনাযন্ত্র অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন থেকে । চার্লস ব্যাবেজকে তাই কম্পিউটারের জনক বলা হয় ।

প্রথমদিকের কম্পিউটারগুলাে আকার ও আয়তনে ছিল বিশাল , কয়েকটি রুমে রাখতে হত এর যন্ত্রপাতি ।

পরবর্তীকালে মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কার হওয়ায় এর আকার ছােট হয়ে আসে ।  এখন এমনকি হাতের তালুর আকারের কম্পিউটারও বাজারে পাওয়া যায় ।

কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পাদিত কাজ সমূহ:

আধুনিক যুগে এমন কোন কাজ নেই যা কম্পিউটার করছে না ।

কম্পিউটার কোটি কোটি সংখ্যার জটিল অঙ্ক নিমেষেই সমাধান করছে । তাছাড়া কলকারখানার উৎপাদন ও বন্টন নিয়ন্ত্রণ করছে ।

ব্যাংক, বীমা, যােগাযােগ মাধ্যম অথবা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সব জায়গাতেই কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে ।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটার একদিকে অস্ত্রোপচারে অংশ নিচ্ছে , অন্যদিকে তা রােগীর শারীরিক অবস্থা নিরূপণ করে রােগ নির্ণয়ে ভূমিকা রাখছে ।

বর্তমানে কম্পিউটার ব্যবহার করে মানুষ ছবি আঁকছে, পুরনাে ছবি পুনরুদ্ধার করছে, মানচিত্র আঁকছে ।

কম্পিউটারে খেলছে দাবা, ক্রিকেট, ফুটবল, রেসিং সব বহু ধরনের ভিডিও গেম।

প্রিন্টিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং বাড়িঘর , গাড়ি , বিমান , সৌধ ইত্যাদির কাঠামােগত নকশা তৈরিতেও কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ।

শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে , এমনকি পরীক্ষার ফলাফল প্রদানেও কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে ।

ইন্টারনেটের সাহায্যে ঘরে বসে মুহর্তেই বিশ্বের যেকোনাে জায়গায় যেকোনাে তথ্য আদান – প্রদানের সুযােগ এনে দিয়েছে কম্পিউটার । ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন ঘরে বসে আয় করা সম্ভব হচ্ছে। এটি সম্ভব হচ্ছে কম্পিউটারের সহায়তায়।

এভাবে কম্পিউটার মানব সভ্যতাকে দিয়েছে বিপুল কর্মসুবিধা, দুরন্ত গতি ও অযুত সম্ভাবনা ।

কম্পিউটারজনিত বিভিন্ন সমস্যা:

কম্পিউটারের ক্ষমতা সাধারণ জনশক্সির চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে এর ব্যাপক ব্যবহারে বহু মানুষ ধীরে ধীরে কর্মহীন হয়ে পড়ছে ।

ফলে পৃথিবীতে বেকারত্ব বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে ।

এ ছাড়া কম্পিউটার হতে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলেও বিবেচিত হচ্ছে ।

শেষ কথা:

কম্পিউটারের সঠিক ব্যবহার আমাদের মতাে উন্নয়নশীল দেশের জন্য অপরিহার্য। 

আবার, এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের দেশের বেকারত্বকে বৃদ্ধি করতে পারে । এর অপব্যবহারও তরুণ প্রজন্মের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে ।

তাই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করে কম্পিউটারের সঠিক ও সময়ােপযােগী ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে , তা আমাদের অগ্রযাত্রার সুফল বয়ে আনবে ।

Also Read

Leave a Comment