ম্যালওয়্যার কী? ম্যালওয়্যার কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিত জেনে নিন

কম্পিউটারে কোন কাজ করতে হলে সেটি প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয় । সাধারণভাবে কম্পিউটারে দুই ধরনের প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম গুচ্ছ থাকে । এর একটি হলো সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অপরটি এপ্লিকেশন সফটওয়্যার।

সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারের হার্ডওয়ার সমূহক যথাযথভাবে ব্যবহারের পরিবেশ নিশ্চিত রাখে অন্যদিকে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কোন বিশেষ কাজ সম্পন্ন করে। এসকল সঙ্গে আমাদের পরিচয় বেশি যেমন অফিস ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ডাটাবেজ সফটওয়্যার ওয়েবসাইট দেখার ব্রাউজার ইত্যাদি। কোন সফটওয়্যার কাজ করে তখন এর কিছু অংশ কম্পিউটারের প্রধান মেমোরি তে অবস্থান নেয় এবং বাকি অংশগুলো অপারেটিং সিস্টেমের সহায়তায় অন্য কার্যাবলী সম্পন্ন করে।

What is Malware?

আবার এমন প্রোগ্রামিং কোড লেখা সম্ভব যে সকল সফটওয়্যার এর কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে । বিভিন্ন হার্ডওয়ারের সফটওয়্যার ইন্টারফেস বিনষ্ট করতে পারে। এমনকি সম্পূর্ণ কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ফেলতে পারে। যেহেতু এ ধরনের প্রোগ্রামিং কোড বা প্রোগ্রাম গুচ্ছ কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর তাই এ ধরনের সফটওয়্যার কে বলা যেতে পারে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা মেলিসিয়াস সফটওয়্যার আর একেই বলে ম্যালওয়্যার।

ম্যালওয়্যার কি কি ক্ষতি করে?

ম্যালওয়ার এক ধরনের সফটওয়্যার যা কিনা অন্য সফটওয়্যারকে কাঙ্ক্ষিত কর্মসম্পাদন এ বাধার সৃষ্টি করে । আর এ বাধা অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার বা এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর জন্যই হতে পারে শুধু যে বাধার সৃষ্টি করে তা নয় । কোন কোন ম্যালওয়ার ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে রক্ষিত তথ্য চুরি করে। কোন কোন সময় ব্যবহারকারীর অজান্তে তার কম্পিউটার সিস্টেমের প্রবেশাধিকার লাভ করে । ম্যালওয়্যার প্রোগ্রামিং কোড , স্ক্রিপ্ট সক্রিয়তার কিংবা অন্যান্য সফটওয়্যার এর মতো প্রকাশিত হতে পারে। অন্য ভাবে বলা যায় কম্পিউটারে অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার এর সাধারণ নামেই হল ম্যালওয়ার।

ম্যালওয়্যার এর প্রকারভেদ

কম্পিউটার ভাইরাস, ট্রোজান হর্সেস , রুটকিটস কিলগার, ডায়ালার, স্পাই ওয়্যার, অ্যাড ওয়ার প্রভৃতি ম্যালওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত । অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে ক্ষতিকর সফটওয়্যার এর মধ্যে ট্রোজান হর্স, ওয়ার্ম এর সংখ্যা ভাইরাস এর চেয়ে বেশি । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাইবার আইনের মাধ্যমে উন্নয়ন ও প্রকাশ নিষিদ্ধ হলেও সারা বিশ্বের মধ্য অসংখ্য ম্যালওয়্যার তৈরি হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত হচ্ছে।

ম্যালওয়্যার কিভাবে ছড়িয়ে পড়ে?

যে সকল কম্পিউটার সিস্টেমে সফটওয়্যার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি থাকে সেসব ক্ষেত্রে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কেবল নিরাপত্তা ত্রুটি নয় ডিজাইনেবল থাকলেও সফটওয়্যারটি অকার্যকর করার জন্য ম্যালওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হয়। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ম্যালওয়্যারের সংখ্যা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম এর তুলনায় বেশি। এর একটি কারণ উইন্ডোজ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি । অপারেটিং সিস্টেম এর ভেতরর খবর কেউ জানেনা । কাজে কোন ভুল বা গলোদ কেউ বের করতে পারলে সে এটিকে ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার তৈরি করতে পারে। ইন্টারনেটের বিকাশের আগে ম্যালওয়্যারের সংখ্যা খুবই কম ছিল। যখন থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তখন থেকেই ম্যালওয়্যারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Leave a Comment