ইন্টারনেট কি এবং কিভাবে কাজ করে ? (About Internet)

বন্ধুরা, আমার এই আর্টিকেলে “ইন্টারনেট কি এবং কিভাবে কাজ করে” সবকিছু বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ইন্টারনেট কি ? (What is Internet in Bangla)

আধুনিক যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ ইন্টারনেটের যুগ । বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে ইন্টারনেট এমন এক সুতোয় বন্ধনে আবদ্ধ করেছে যে , সে সুতাে ছিড়ে গেলে হয়তাে সমগ্র বিশ্বব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়বে ।

ইন্টারনেট কি
ইন্টারনেট কি ? (What is Internet in Bangla)

এদিক থেকে ইন্টারনেটকে একটি বিশাল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম বলা যেতে পারে ।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ পৃথিবীর সর্বত্র ঘুরে আসতে পারে নিমেষেই ।

১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বপ্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার করে ।

শুরুতে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের গবেষণার প্রয়ােজনে এ ইন্টারনেট সিস্টেমকে কাজে লাগায় ।

সেসময় ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ) ইন্টারনেটের দায়িত্ব নেয় ।

ইন্টারনেটের টেকনিক্যাল সাপাের্ট দেয় ন্যাশনাল সায়েন্স NGO ফাউন্ডেশন (এনএসএফ) ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা মাত্র ৪ টি কম্পিউটারের মধ্যে গড়ে তুলেছিলেন প্রথম অভ্যন্তরীণ যােগাযােগ ব্যবস্থা ।

এর তিনটি কম্পিউটার ছিল ক্যালিফোর্নিয়ায় ও একটি ছিল উটাই তে।

এ যােগাযােগ ব্যবস্থার নাম ছিল ডাপার্নেট

এরপর শুধু বিস্ময়কর সাফল্যের ইতিহাস । তিন বছর যেতে না যেতেই ডাপানেট এর নাম বদল করতে হয় ।

আরপানেট: কম্পিউটারের সংখ্যা তখন চার থেকে তেত্রিশে পৌছায় । এর নাম রাখা হয় আরপানেট (Advanced Research Projects Agency Network)

যার উদ্দেশ্য ছিল পারমাণবিক আক্রমণ ঠেকানাের জন্য বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান – প্রদান করা ।

সত্তর ও আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান , বিশ্ববিদ্যালয় এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হয় । ক্রমশ চাহিদা বাড়তে থাকলে ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন সর্বসাধারণের জন্য এরকম অন্য একটি যােগাযােগ ব্যবস্থা চালু করেন ।

এর নাম দেওয়া হয় নেস্ফেনেট । তিন বছরের মধ্যে নেস্ফেনেট এর বিস্তার সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে ।

আর তখনই প্রয়ােজন দেখা দেয় একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তােলার ।

গত শতকের নব্বই দশকের শুরুতে এ নেটওয়ার্ক গড়ে তােলা হয় । বিশ্বের মানুষ পরিচিত হয় ইন্টারনেট (Internet) নামক একটি ধারণার সঙ্গে ।

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ইতিহাস (History of Internet in Bangladesh)

বাংলাদেশ ১৯৯৩ সালের ১১ নভেম্বর ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু করে ।

সেসময় অফলাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু হয় । তখন ই-মেইলের কেবল ডাউনলােড (মেইল গ্রহণ) ও আপলােড (মেইল প্রেরণ) ছাড়া আর কিছুই করা সম্ভব হয়নি ।

এক্ষেত্রে গ্রাহকরা তাদের কম্পিউটার থেকে যােগাযােগ সফটওয়্যারের মাধ্যমে মডেম ও টেলিফোন লাইনের সাহায্যে সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেইল বিনিময় করত ।

সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলাে দিনে কয়েকবার আইএসডি , টেলিসংযােগ তারের সঙ্গে সংযুক্ত কম্পিউটারে পাঠিয়ে দিত ।

একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে আসা মেইলগুলাে ডাউনলােড করা হতাে ।

উল্লিখিত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনাে যােগাযােগ প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের কাছে সরাসরি ই-মেইল পাঠাতে পারত না ।

তাদের একজনের পাঠানাে তথ্য সারাবিশ্ব ঘুরে আবার অপর গ্রাহকের কাছে যেত ।

কিন্তু অনলাইন সার্ভিস চালু হওয়ার পর যােগাযােগের সকল বাধা দূর হয় ।

বাংলাদেশ অনলাইন ইন্টারনেট সার্ভিসের বিশাল জগতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে ।

১৯৯৬ সালের ৪ জুন VSAT চালুর মাধ্যমে প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট চালু করে ISN (Information Services Network).

এরপর গ্রামীণ সাইবার নেট, ইউ অনলাইন, BRAC, BDMAIL, PRADESHTA NET, AGNI SYSTEM ইত্যাদি সংস্থাসহ মােট ১২ টি সংস্থা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রােভাইডার হিসেবে কাজ করছে ।

সম্প্রতি অপটিক্যাল হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে বাংলাদেশের মানুষ আরও দ্রুত ও সহজে বিশ্বের সঙ্গে যােগাযােগ করতে পারছে ।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্য, অনলাইন ইনকাম, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব সবই আমরা ব্যবহার করতে পারছি।

ইন্টারনেট কি ? ইন্টারনেটের মাধ্যমে কি কি কাজ করা যায় ?

যােগাযােগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আজ অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করা যাচ্ছে । তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণ থেকে শুরু করে বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষের সঙ্গে আভড়া , সম্মেলন , শিক্ষা , বিপণন , অফিস ব্যবস্থাপনা , বিনােদন ইত্যাদি ইন্টারনেটের সাহায্যে করা যাচ্ছে ।

মাল্টিমিডিয়ার বিকাশের সাথে সাথে প্রতিদিন এর সম্ভাবনা আরও বাড়ছে । বাংলাদেশের একজন লােকের পক্ষে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিউইয়র্কের কোনাে ওপেন এয়ার কনসার্ট উপভােগ করা সম্ভব হচ্ছে ।

বাংলাদেশের একজন রােগী লন্ডনের একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারছেন।

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এক দেশে বসে অন্য দেশের জিনিসপত্র কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে ।

মহাকাশ গবেষণায় ইন্টারনেট বিজ্ঞানীদের অধিক সহায়তা দিচ্ছে ।

এছাড়াও ই-মেইলসহ ইন্টারনেটের রয়েছে বহুবিধ ব্যবহার ।

ইন্টারনেটের সুবিধা ও অসুবিধা কি ?

বাস্তবতা হলাে বিশ্বের যােগাযােগ ব্যবস্থার সঙ্গে ইন্টারনেট আজ নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে ।

ইন্টারনেট ব্যবহারে রয়েছে উপকারিতার পাশাপাশি কিছু অপকারিতা । এক শ্রেণির মানুষ আছে যারা ভালােটা থেকে মন্দটা গ্রহণ করে বেশি ।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে উঠতি তরুণেরা বিভিন্ন অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ দৃশ্যাবলি দেখে সময় নষ্ট করছে । এ যুবসমাজকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য চাই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ।

যদিও সরকার তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রােধে আইন তৈরি করেছে ।

ইন্টারনেট বর্তমান বিশ্বের যোগাযােগ ব্যবস্থায় অপরিহার্য মাধ্যম । এর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়ে পড়েছে ।

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার কম্পিউটারের আমদানি সম্পূর্ণ করমুক্ত করাতে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা বেড়েছে অনেক ।

ইন্টারনেটকে জনপ্রিয় করে তােলার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ইন্টারনেট কমিটি গঠন করা হয়েছে । দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ইন্টারনেটের ব্যবহার সকলের নিকট সহজলভ্য করতে হবে ।

আশা করি, আপনারা ইন্টারনেট কি, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ইতিহাস, ইন্টারনেট কি কি কাজে ব্যবহার করা হয়, ইন্টারনেটের বিকাশ কিভাবে হয়েছিলো এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে গিয়েছেন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।

Also Read

Leave a Comment