আবেদনপত্র বা দরখাস্ত লেখার নিয়ম (সেরা পদ্ধতি)

কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা চিঠিকে বলা হয় আবেদনপত্র ।

প্রধান শিক্ষকের কাছে ছুটি মঞ্জুর , বেতন কমানো , বৃত্তি প্রার্থনা ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র লিখতে হয় । পৌরসভা কিংবা সরকারি – বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো অভাব – অভিযোগ জানাতে বা সমস্যা সমাধানের জন্যও আবেদনপত্র লেখা হয়ে থাকে । যেমন : রাস্তা মেরামত , ডাকঘর স্থাপন ইত্যাদি ।

কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে চাকরির জন্য লেখা চিঠিও আবেদনপত্র হিসেবে গণ্য এই ধরনের চিঠিতে কেবল মূল প্রসঙ্গ ও প্রয়োজনীয় কথাই থাকে । বক্তব্য দীর্ঘ হয় না । বক্তব্য হয় স্পষ্ট । তাতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়।
সেই সাথে বিশেষ নজর রাখতে হয় ভাষার সরলতা ও শুদ্ধতার ওপর । এ ধরনের পত্রের ছক বা কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণ করা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে ।

আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্রের কাঠামাে এ ধরনের পত্রে মোটামুটিভাবে নিচের ছক বা কাঠামো মেনে চলা উচিত :

১. তারিখ : ওপরে বাম দিকে চিঠির তারিখ দিতে হয় । একেবারে নিচে আবেদনকারীর ঠিকানার নিচেও তারিখ দেওয়া চলে ।

২ . পত্র প্রাপকের ঠিকানা : পত্রের শুরুতে বাম দিকে পত্র – প্রাপকের প্রাতিষ্ঠানিক ঠিকানা লিখতে হয় । এর আগে বরাবর ‘ কথাটি লেখারও চল রয়েছে ।

৩ . বিষয় : পত্র – প্রাপকের ঠিকানার নিচে সামান্য ফাঁক রেখে ‘ বিষয় : ‘ কথাটি লিখে তার পাশে পত্রের মূল বক্তব্য বিষয় খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হয়

৪. সম্ভাষণ : এ ধরনের পত্রে সবিনয় নিবেদন , জনাব , মান্যবরেষু , মহামান্যবরেষু , মহোদয় ইত্যাদি সম্ভাষণের যেকোনো একটি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয় ।

৫. মূল পত্রাংশ : পত্রের মূল বক্তব্য এই অংশে থাকে । সাধারণত দুটি অনুচ্ছেদে এই বক্তব্য উপস্থাপিত হয় ।

প্রথম অনুচ্ছেদে বক্তব্য – বিষয় বা সমস্যার প্রকৃতি তুলে ধরা হয় । দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে পত্র – প্রাপকের কাছে যে জন্য পত্র লেখা হচ্ছে সে বিষয়ে আবেদন করা হয়ে থাকে ।

৬. বিদায় সম্ভাষণ : বিদায় সম্ভাষণে সাধারণত বিনীত , বিনয়াবনত , নিবেদন ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়ে থাকে । নাম – স্বাক্ষর : বিদায় সম্ভাষণের নিচে পত্র – লেখকের নাম – স্বাক্ষর করতে হয় । পত্র – লেখক কোনো প্রতিষ্ঠান বা এলাকার প্রতিনিধিত্ব করলে তা স্বাক্ষরের নিচে ঠিকানাসহ উল্লেখ করা হয়ে থাকে ।

একটি উদাহরণ:

তারিখ: ০৪-০২-২০২০<br><br>
বরাবর
প্রধান শিক্ষক
পাটগ্রাম টিএন স্কুল এন্ড কলেজ।
বিষয়: শিক্ষাসফরে যাওয়ার অনুমতি প্রদানের জন্য আবেদন ।

মহোদয়, বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা আপনার বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী । দীর্ঘদিনের একঘেয়ে ক্লাস ও পরীক্ষার কারণে আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি । তাই আমরা ঠিক করেছি পাঠ সহায়ক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাতীয় জাদুঘরে শিক্ষাসফরে যাব । জাদুঘরে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে সেখানে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহের পাশাপাশি জাতীয় ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখার সুযোগ লাভ করব । বিকেলে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে ঘুরে দেখব । এ বিষয়ে আমরা শ্রেণিশিক্ষক ও অভিভাবকদের অনুমতি নিয়েছি । আপনার অনুমতি পেলে নির্দিষ্ট একটি তারিখ ঠিক করে চাঁদা উত্তোলনসহ অন্যান্য পরিকল্পনা তৈরি করব ।

অতএব, বিনীত প্রার্থনা, আমাদের শিক্ষাসফরে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে আমাদের বাধিত করবেন ।

বিনীত নিবেদক
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীবৃন্দ

Leave a Comment